Successful Delivery & On-Demand Business in 2026
(2026 সালে সফল ডেলিভারি ও অন-ডিমান্ড সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার পূর্ণাঙ্গ গাইড)
Introduction (ভূমিকা)
কখনও কি খেয়াল করেছেন, গত কয়েক বছরে আমাদের জীবনযাত্রা কতটা বদলে গেছে? আজ থেকে ৫-৭ বছর আগেও আমরা ভাবতাম, রেস্টুরেন্টের খাবার মানেই ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে সেখানে গিয়ে খাওয়া। আর আজ? অফিসের কাজের ফাঁকে বা ছুটির দিনে সোফায় শুয়ে মাত্র কয়েকটা ক্লিকের অপেক্ষা, আর খাবার চলে আসছে আপনার দোরগোড়ায়।
শুধু খাবার নয়—মুদি বাজার, ওষুধ, লন্ড্রি সার্ভিস, এমনকি বাসার এসি নষ্ট হলে টেকনিশিয়ানও এখন ‘অন-ডিমান্ড’ বা চাহিবামাত্র পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এই “ডেলিভারি এবং অন-ডিমান্ড ইকোনমি” এখন বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি। বাংলাদেশেও পাঠাও (Pathao), ফুডপান্ডা (Foodpanda), কিংবা চালডাল (Chaldal)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই খাতে সফল হওয়া সম্ভব।
আপনি যদি একজন নতুন উদ্যোক্তা হন এবং ২০২৫ সালে নিজের একটি ডেলিভারি বা সার্ভিস বিজনেস শুরু করার স্বপ্ন দেখেন, তবে এই গাইডটি আপনার জন্যই। এই আর্টিকেলে আমরা গতানুগতিক কথাবার্তা বলবো না; বরং মার্কেটের বর্তমান অবস্থা, লাভজনক আইডিয়া এবং চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবেন—তার বাস্তবসম্মত ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরবো।
চলুন, ব্যবসার গভীরে প্রবেশ করা যাক।
Why is On-Demand Delivery Profitable?
(অন-ডিমান্ড ডেলিভারি ব্যবসা কেন লাভজনক?)
যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে সবার আগে যে প্রশ্নটি আসে তা হলো—”এই ব্যবসায় কি আসলেও লাভ আছে?” ডেলিভারি বা অন-ডিমান্ড সার্ভিসের ক্ষেত্রে উত্তরটা হলো—”হ্যাঁ, তবে যদি আপনি সঠিক সমস্যা সমাধান করতে পারেন।” বর্তমান সময়ে এই খাতের প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান দুটি কারণ কাজ করছে:
1. The Boom of E-commerce (ই-কমার্সের বিশাল প্রবৃদ্ধি): বাংলাদেশে বর্তমানে ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স (Facebook Commerce) বিপ্লব চলছে। ছোট একজন উদ্যোক্তা, যিনি বাসায় তৈরি কেক বিক্রি করেন, তারও কিন্তু একজন ডেলিভারি পার্টনার প্রয়োজন। বড় ই-কমার্স সাইট যেমন দারাজ (Daraz) বা পিকাবু (Pickaboo) তাদের লজিস্টিকসের জন্য থার্ড পার্টি সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে। স্ট্যাটিস্টা (Statista)-এর তথ্যমতে, অন-ডিমান্ড ডেলিভারি মার্কেটের গ্রোথ রেট প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। যেখানে পণ্য কেনাবেচা আছে, সেখানেই ডেলিভারি সার্ভিসের প্রয়োজন অনিবার্য।
2. Value of Time & Convenience (সময়ের মূল্য এবং আরামপ্রিয়তা): মানুষ এখন পণ্যের চেয়ে ‘সময়’ এবং ‘সুবিধা’ কিনতে বেশি আগ্রহী। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো শহরে যেখানে ট্রাফিক জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা নষ্ট হয়, সেখানে একজন গ্রাহক ৫০-১০০ টাকা ডেলিভারি চার্জ দিয়ে ঘরে বসে পণ্য পেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই মানসিকতাই ডেলিভারি ব্যবসার মূল পুঁজি। আপনি যখন কোনো পণ্য ডেলিভারি করছেন, আপনি আসলে গ্রাহকের মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে দিচ্ছেন।
Top 5 Profitable On-Demand Business Ideas
(সেরা ৫টি অন-ডিমান্ড ডেলিভারি ব্যবসার আইডিয়া)
অনেকেই মনে করেন ডেলিভারি ব্যবসা মানেই শুধু পার্সেল আনা-নেওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনি যদি স্পেসিফিক কোনো ‘নিস’ (Niche) বা ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করেন, তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। নিচে বর্তমান সময়ের সেরা ৫টি আইডিয়া আলোচনা করা হলো:
1. Hyper-Local Grocery & Medicine Delivery (হাইপার-লোকাল গ্রোসারি ও মেডিসিন): এটি বর্তমানের সবচেয়ে হট টপিক। ‘পান্ডামার্ট’ বা ‘চালডাল’-এর মতো বড় কোম্পানি থাকার পরেও লোকাল লেভেলে এর প্রচুর চাহিদা আছে।
-
বাস্তব উদাহরণ: ধরুন আপনি উত্তরা বা ধানমন্ডির মতো একটি নির্দিষ্ট এলাকা টার্গেট করলেন। আপনার প্রতিশ্রুতি হলো—”অর্ডার করার ৩০ মিনিটের মধ্যে জরুরি ওষুধ বা চাল-ডাল পৌঁছে দেওয়া হবে।” বড় কোম্পানিগুলো অনেক সময় ১-২ ঘন্টা সময় নেয়, কিন্তু আপনি যদি লোকাল ফার্মেসী বা গ্রোসারি শপের সাথে পার্টনারশিপ করে ৩০ মিনিটে ডেলিভারি দিতে পারেন, তবে ওই এলাকার কাস্টমাররা আপনাকেই বেছে নেবে।
2. Food Delivery & Cloud Kitchen Logistics (ফুড ডেলিভারি ও ক্লাউড কিচেন): ফুডপান্ডা বা পাঠাও ফুড তো আছেই, তাহলে নতুন করে এখানে সুযোগ কোথায়? সুযোগ হলো “হোমমেড ফুড” বা “ক্লাউড কিচেন”-এর লজিস্টিকসে।
-
আইডিয়া: অনেক ছোট ছোট উদ্যোক্তা বাসায় খাবার বানিয়ে বিক্রি করেন কিন্তু তাদের নিজস্ব রাইডার নেই। আপনি শুধু এই ধরনের ১০-২০ জন হোম শেফের সাথে চুক্তি করে তাদের খাবার কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক্সক্লুসিভ সার্ভিস চালু করতে পারেন। এটি খুবই লো-ইনভেস্টমেন্ট বা কম পুঁজির বিজনেস মডেল।
3. Last-Mile Delivery for E-commerce (ই-কমার্স ও পার্সেল কুরিয়ার): ‘রেডএক্স’ (RedX) বা ‘পেপারফ্লাই’ (Paperfly) এই সেক্টরে জায়ান্ট। কিন্তু এদের সার্ভিস নিয়ে এখনো অনেক মার্চেন্টের অভিযোগ আছে—যেমন পেমেন্ট পেতে দেরি হওয়া বা পার্সেল হারিয়ে যাওয়া।
-
সুযোগ: আপনি যদি এমন একটি কুরিয়ার সার্ভিস চালু করেন যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি (যেমন: দামী গ্যাজেট বা ভঙ্গুর পণ্য) অত্যন্ত যত্নের সাথে ডেলিভারি দেবে এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে মার্চেন্টকে পেমেন্ট ক্লিয়ার করবে—তবে প্রিমিয়াম চার্জ দিয়েও মার্চেন্টরা আপনার সার্ভিস নেবে। বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পুঁজি।
4. On-Demand Home Services (অন-ডিমান্ড হোম সার্ভিস – ক্লিনিং ও রিপেয়ার): পণ্য ডেলিভারির বাইরে সেবা ডেলিভারি দেওয়া এখন বিশাল মার্কেট। আরবান কোম্পানি (Urban Company) বা সেবা.এক্সওয়াইজেড (Sheba.xyz) এর উদাহরণ।
-
আইডিয়া: এসি সার্ভিসিং, প্লাম্বিং, সোফা ক্লিনিং বা বিউটি সার্ভিস—এই ধরনের দক্ষ কারিগরদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে কাস্টমারের বাসায় পাঠানো। এখানে আপনার কাজ হলো কোয়ালিটি নিশ্চিত করা। কাস্টমাররা দক্ষ মিস্ত্রি খুঁজে পায় না, আর মিস্ত্রিরা কাজ পায় না—আপনি এই দুইয়ের মাঝখানের সেতু হিসেবে কাজ করবেন।
5. B2B or Corporate Delivery (কর্পোরেট বা অফিসিয়াল ডেলিভারি): এটি কিছুটা আড়ালে থাকা কিন্তু অত্যন্ত লাভজনক খাত। সাধারণ মানুষের পার্সেল নয়, বরং এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ডকুমেন্ট, ইনভয়েস বা বাল্ক পণ্য আনা-নেওয়া।
-
কেন করবেন? সাধারণ কাস্টমারদের সাথে ডিল করতে অনেক ঝামেলা (রিটার্ন, ফোন না ধরা ইত্যাদি)। কিন্তু বি-টু-বি (B2B) ব্যবসায় অর্ডার ভলিউম বড় হয় এবং পেমেন্ট নিয়ে অনিশ্চয়তা কম থাকে। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করা যায় বলে আয়ের স্থায়িত্ব থাকে।
Step-by-Step Guide to Starting
(ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করার ধাপে ধাপে নির্দেশিকা)
আইডিয়া তো হলো, কিন্তু শুরুটা করবেন কীভাবে? হুট করে অ্যাপ বানিয়ে বা অফিস নিয়ে বসে পড়লেই ব্যবসা হবে না। একটি সলিড প্ল্যান প্রয়োজন।
Step 1: Market Research & Niche Selection (মার্কেট রিসার্চ ও নিস সিলেকশন) সবচেয়ে বড় ভুল যা নতুনরা করে, তা হলো—শুরুতেই ‘সবকিছু’ ডেলিভারি করতে চাওয়া। অ্যামাজন বা আলিবাবাও একদিনে আজকের অবস্থানে আসেনি।
-
করণীয়: আপনি কোন এলাকায় সার্ভিস দেবেন এবং কী ডেলিভারি করবেন তা ঠিক করুন। আপনার এলাকায় কি ওষুধের দোকানের অভাব? নাকি মানুষ রেস্টুরেন্টের খাবার দ্রুত পেতে চায়? কম্পিটিটররা (যেমন পাঠাও বা উবার) কোথায় ভুল করছে? তাদের কাস্টমার রিভিউজ পড়ুন। যেখানে মানুষ অভিযোগ করছে, সেটাই আপনার ব্যবসার সুযোগ বা ‘গ্যাপ’।
Step 2: Business Model & Pricing (বিজনেস মডেল ও প্ল্যানিং) টাকাটা আসবে কোথা থেকে? মূলত তিনটি মডেল জনপ্রিয়:
-
কমিশন ভিত্তিক (Commission Based): প্রতিটি অর্ডারের ওপর ১০-২০% কমিশন (যেমন ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলো করে)।
-
ডেলিভারি চার্জ ভিত্তিক (Delivery Fee Based): কাস্টমারের কাছ থেকে সরাসরি ডেলিভারি চার্জ নেওয়া (যেমন পার্সেল ডেলিভারি)।
-
সাবস্ক্রিপশন মডেল (Subscription Model): কাস্টমার মাসে একটি নির্দিষ্ট ফি দেবে এবং বিনিময়ে আনলিমিটেড ফ্রি ডেলিভারি পাবে (যেমন অ্যামাজন প্রাইম)। শুরুতে ফিক্সড ডেলিভারি চার্জ মডেলটি নিরাপদ।
Step 3: Legal Documentation & Licensing (লিগ্যাল ডকুমেন্ট ও লাইসেন্সিং) বাংলাদেশে ডেলিভারি ব্যবসা করতে গেলে আইনি ঝামেলা এড়ানো অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ফেসবুকে পেজ খুলে ব্যবসা শুরু করেন, কিন্তু বড় পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে চাইলে বৈধ কাগজপত্র থাকতেই হবে।
-
ট্রেড লাইসেন্স (Trade License): আপনার সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ই-কমার্স বা সাপ্লাই চেইন ক্যাটাগরিতে ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।
-
টিআইএন ও ভ্যাট (TIN & VAT): ব্যবসার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন সার্টিফিকেট এবং ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন।
-
মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্স: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকারের “মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস বিধিমালা-২০১৩” অনুযায়ী, পার্সেল বা ডকুমেন্ট আনা-নেওয়ার জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের (Licensing Authority) কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। শুরুতে ছোট পরিসরে লোকাল ডেলিভারি করলে সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কাজ চালানো গেলেও, ব্যবসা বাড়লে এই লাইসেন্সটি বাধ্যতামূলক।
Step 4: Fleet Management & Team Building (ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট ও টিম গঠন) আপনার ব্যবসার ‘মেরুদণ্ড’ হলো আপনার রাইডার বা ডেলিভারি ম্যানরা। আপনার অ্যাপ যতই সুন্দর হোক, রাইডার যদি কাস্টমারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বা পণ্য চুরি করে, তবে ব্যবসা একদিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
-
নিয়োগ প্রক্রিয়া (Hiring): রাইডার নিয়োগের সময় তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং একজন গ্যারান্টারের তথ্য বা গ্যারান্টি চেক জমা রাখুন। এটি বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
-
স্যালারি নাকি কমিশন? স্টার্টআপ হিসেবে শুরুতে ফিক্সড স্যালারিতে না গিয়ে ‘ফিক্সড স্যালারি + কমিশন’ বা ‘সম্পূর্ণ কমিশন’ মডেলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন: প্রতিটি ডেলিভারির জন্য ৫০ টাকা + মাসে নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণ করলে বোনাস।
-
সফট স্কিল ট্রেনিং: রাইডারদের শেখান কীভাবে কাস্টমারের সাথে হাসিমুখে কথা বলতে হয় এবং পণ্য হ্যান্ডেল করতে হয়। মনে রাখবেন, রাইডাররাই কাস্টমারের সামনে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছে।
Role of Technology & App Development
(অন-ডিমান্ড ব্যবসার জন্য প্রযুক্তি বা অ্যাপের ভূমিকা)
২০২৫ সালে এসে খাতা-কলমে বা শুধু এক্সেলে (Excel) ডেলিভারি ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব। কাস্টমার চায় রিয়েল-টাইম আপডেট। প্রযুক্তির ব্যবহার আপনার সময় বাঁচাবে এবং ভুলের পরিমাণ কমাবে। একটি আদর্শ অন-ডিমান্ড ডেলিভারি সিস্টেমে ৩টি অংশ থাকে:
1. Customer App/Website (গ্রাহকের জন্য): সহজ ইন্টারফেস থাকতে হবে যেন কাস্টমার ৩-৪ ক্লিকেই অর্ডার করতে পারেন। রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং (Real-time Tracking) ফিচারটি এখন বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। কাস্টমার যেন দেখতে পান রাইডার এখন ম্যাপের কোথায় আছেন।
2. Rider App (রাইডার বা ড্রাইভারের জন্য): রাইডারদের জন্য আলাদা অ্যাপ থাকবে যেখানে তারা নতুন অর্ডারের নোটিফিকেশন পাবে। এতে গুগল ম্যাপ ইন্টিগ্রেশন (Google Map Integration) থাকতে হবে যেন তারা কাস্টমারের লোকেশন সহজে খুঁজে পায়। এছাড়াও, তাদের দৈনিক আয়ের হিসাব (Daily Earnings) অ্যাপেই দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
3. Admin Dashboard (এডমিন প্যানেল): এটি আপনার ব্যবসার ‘কন্ট্রোল রুম’। এখান থেকে আপনি সব অর্ডার মনিটর করবেন, পেমেন্ট চেক করবেন এবং রাইডারদের এসাইন করবেন। অটোমেটেড ডিসপ্যাচ সিস্টেম (Automated Dispatch System) ব্যবহার করলে অর্ডার আসার সাথে সাথে কাছের রাইডারের কাছে নোটিফিকেশন চলে যায়, যা ম্যানুয়ালি ফোন করার ঝামেলা কমায়।
টিপস: শুরুতে নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হতে পারে। বাজেট কম থাকলে ‘SaaS’ (Software as a Service) ভিত্তিক রেডিমেড ডেলিভারি সফটওয়্যার ভাড়া নিয়ে বা সাবস্ক্রিপশন মডেলে শুরু করতে পারেন।
Major Challenges & Practical Solutions
(এই ব্যবসার প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান)
ডেলিভারি ব্যবসা বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও ভেতরে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জে ভরপুর। যারা এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে পারে, তারাই টিকে থাকে।
Challenge 1: Traffic & Delay (ট্রাফিক জ্যাম ও সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা) বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো অসম্ভব। জ্যামের কারণে ডেলিভারি লেট হলে কাস্টমার অসন্তুষ্ট হয়।
-
সমাধান (Solution): ‘রুট অপ্টিমাইজেশন সফটওয়্যার’ ব্যবহার করুন। এটি রাইডারকে জ্যাম এড়িয়ে শর্টকাট রাস্তা দেখাবে। এছাড়া, কাস্টমারকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি (যেমন: “১০ মিনিটে পৌঁছাব”) দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। একটি বাফার টাইম (Buffer Time) হাতে রেখে ডেলিভারি টাইম বলুন।
Challenge 2: Cash on Delivery (COD) Risk (টাকা কালেকশনের ঝুঁকি) বাংলাদেশে এখনো ৯০% ই-কমার্স লেনদেন হয় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’তে। রাইডারদের হাতে সারাদিন অনেক নগদ টাকা থাকে, যা চুরি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি তৈরি করে।
-
সমাধান (Solution): রাইডারদের দিন শেষে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম কড়াকড়ি করুন। এখন মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) এর মাধ্যমে রাইডাররা কাস্টমারের সামনে দাঁড়িয়েই কোম্পানির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিতে পারে। এটি ক্যাশ হ্যান্ডলিংয়ের ঝুঁকি কমায়।
Challenge 3: Rider Retention (রাইডার ধরে রাখা) এই ব্যবসায় রাইডারদের চাকরি ছাড়ার হার (Attrition Rate) খুব বেশি। আজ আছে তো কাল নেই।
-
সমাধান (Solution): শুধু টাকা দিয়ে রাইডার ধরে রাখা যায় না। তাদের সম্মান দিন। মাসিক সেরা রাইডারকে পুরস্কার দিন, ইনসিওরেন্স সুবিধা দিন বা বিপদে পাশে দাঁড়ান। তারা যখন নিজেদের কোম্পানির অংশ মনে করবে, তখন সহজে ছেড়ে যাবে না।
Marketing Strategy for Delivery Business
(ডেলিভারি ব্যবসার কার্যকরী মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি)
আপনার সার্ভিস ভালো, কিন্তু মানুষ যদি জানতেই না পারে তবে অর্ডার আসবে না। ডিজিটাল যুগে লিফলেট বিলি করার চেয়ে স্মার্ট মার্কেটিং বেশি জরুরি।
1. Hyper-Local SEO & Social Media (লোকাল এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়া): আপনি যদি ধানমন্ডিতে সার্ভিস দেন, তবে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স মিরপুরের মানুষ নয়।
-
কৌশল: ফেসবুকে ‘Location Targeting’ ব্যবহার করে শুধুমাত্র আপনার সার্ভিস এলাকার মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দিন। গুগল ম্যাপে আপনার ব্যবসার প্রোফাইল (Google My Business) ভেরিফাই করুন এবং অপ্টিমাইজ করুন। কেউ যখন গুগলে সার্চ করবে “Delivery service near me”, তখন যেন আপনার নাম সবার আগে আসে।
2. B2B Partnerships (মার্চেন্ট পার্টনারশিপ): খুচরা কাস্টমার খোঁজার চেয়ে এমন মার্চেন্ট খুঁজুন যাদের প্রতিদিন ১০-২০টি পার্সেল থাকে।
-
কৌশল: এলাকার জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট, বুটিক শপ বা ফার্মেসির মালিকদের সাথে সরাসরি দেখা করুন। তাদের অফার দিন—”আপনার বর্তমান ডেলিভারি ম্যানের চেয়ে আমি ১০ টাকা কমে এবং ৩০ মিনিট দ্রুত ডেলিভারি দেব।” শুরুতে কিছু ফ্রি ট্রায়াল ডেলিভারি দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করুন।
3. Discounts & Referral Programs (ডিসকাউন্ট ও রেফারেল):
-
কৌশল: “প্রথম ডেলিভারি ফ্রি” বা “বন্ধুকে ইনভাইট করলে ৫০% ছাড়”—এই ধরনের অফার নতুন ইউজার আনতে জাদুর মতো কাজ করে। উবার বা পাঠাও তাদের শুরুর দিনগুলোতে এই স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করেই বাজার দখল করেছিল।
Conclusion
(উপসংহার)
ডেলিভারি এবং অন-ডিমান্ড সার্ভিস ব্যবসা কোনো ‘দ্রুত বড়লোক হওয়ার স্কিম’ নয়; এটি একটি ধৈর্যের খেলা। এখানে টেকনোলজির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘কাস্টমার সার্ভিস’ এবং ‘বিশ্বাস’।
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে আপনি যদি কাস্টমারের একটি ছোট সমস্যার সমাধানও সততার সাথে করতে পারেন, তবে আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হতে সময় লাগবে না। শুরুতে হয়তো অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে—কখনও রাইডার আসবে না, কখনও বৃষ্টিতে পার্সেল ভিজবে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ টিম ম্যানেজমেন্ট এবং কাস্টমারের ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিলে আপনিও গড়ে তুলতে পারেন পরবর্তী সফল লজিস্টিকস স্টার্টআপ।
আজই আপনার এলাকার চাহিদা অনুযায়ী একটি ছোট ‘বিজনেস প্ল্যান’ কাগজে লিখে ফেলুন। মনে রাখবেন, হাজার মাইলের যাত্রা শুরু হয় একটি ছোট্ট পদক্ষেপ দিয়েই। শুভকামনা আপনার নতুন উদ্যোগের জন্য!