Top 10 ideas for business students alongside studies

Top 10 ideas for business students alongside studies

Table of Contents

পড়াশোনার পাশাপাশি কোন কোন ব্যবসা করা যায়?

ভূমিকা (Introduction)

আমরা যখন ভার্সিটি বা কলেজের ক্যা ক্যান্টিনে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই, তখন একটা সাধারণ সমস্যা প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে—”মাসের শেষ দিকে পকেটের অবস্থা খুব খারাপ থাকে।” ছাত্রজীবনে এই আর্থিক টানাটানি একটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সময়টাই হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সেরা সময়?

আজকের যুগে পড়াশোনা মানে শুধু ক্লাসের নোট আর পরীক্ষার খাতা নয়। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন জ্যামিতি বক্সের চেয়ে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন অনেক বেশি শক্তিশালী হাতিয়ার। বিশ্বের অনেক নামীদামি উদ্যোক্তা, যেমন ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ বা মাইক্রোসফটের বিল গেটস, তাদের ব্যবসার হাতেখড়ি দিয়েছিলেন ছাত্রাবস্থাতেই। বাংলাদেশেও এখন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আছেন যারা পড়াশোনার পাশাপাশি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছেন, এমনকি পরিবারের হাল ধরছেন।

কেন আপনার এখনই শুরু করা উচিত? প্রথমত, এটি আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতা (Financial Independence) দেবে। বাবার কাছে হাত না পেতে নিজের শখের গ্যাজেট বা ট্যুর খরচ নিজেই চালানো—এই আত্মবিশ্বাস অমূল্য। দ্বিতীয়ত, আপনি যে অভিজ্ঞতা (Experience) অর্জন করবেন, তা কোনো পাঠ্যবই আপনাকে শেখাতে পারবে না। ভবিষ্যতে যখন আপনি চাকরির বাজারে যাবেন বা বড় কোনো উদ্যোগ নেবেন, তখন এই ছোট ছোট প্রচেষ্টাই আপনার পোর্টফোলিওকে ভারী করবে।

এই আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু বাস্তবসম্মত এবং পরীক্ষিত ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনি পড়াশোনার ক্ষতি না করেই শুরু করতে পারেন। চলুন, স্বাবলম্বী হওয়ার যাত্রায় প্রথম পা বাড়ানো যাক।

ছাত্রদের জন্য ব্যবসা নির্বাচনের পূর্বশর্ত (Prerequisites for Starting)

ব্যবসায় নামার আগে আবেগের চেয়ে বিবেগ বেশি জরুরি। হুট করে কোনো কিছু শুরু করে দিলে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে। তাই শুরু করার আগে নিচের তিনটি বিষয় মাথায় গেঁথে নিন।

১. সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা (Time Management)

ছাত্র হিসেবে আপনার প্রধান কাজ পড়াশোনা। তাই এমন ব্যবসা বেছে নিতে হবে যা আপনার ক্লাসের রুটিন বা পরীক্ষার শিডিউলে ব্যাঘাত ঘটাবে না।

  • বাস্তব টিপস: দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় ব্যবসার জন্য বরাদ্দ রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং করে আমরা যে সময়টা নষ্ট করি, সেটাই ইনকামের জন্য ব্যবহার করুন।
  • উদাহরণ: মনে করুন আপনার ক্লাস সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। আপনি বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসার কাজ করলেন এবং রাতে পড়াশোনা করলেন। এই ব্যালেন্সটা জরুরি।

২. স্বল্প মূলধন বা জিরো ইনভেস্টমেন্ট (Low/Zero Investment)

ছাত্রজীবনে আমাদের হাতে খুব বেশি পুঁজি থাকে না, আর ঋণের বোঝা নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই আমাদের ফোকাস থাকবে এমন আইডিয়ার ওপর যেখানে মেধা বা স্কিলই হলো আসল পুঁজি।

  • লজিক: টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করার চেয়ে বুদ্ধি দিয়ে শুরু করা ব্যবসা দীর্ঘস্থায়ী হয়। যদি লসও হয়, তবে আপনার শুধু সময় যাবে, পকেটের টাকা নয়।

৩. আগ্রহ এবং দক্ষতা (Passion & Skill)

সবাই সব কাজ পারে না। কেউ কথা বলতে ভালো পারে, কেউ লিখতে, আবার কেউ ডিজাইন করতে। আপনার পছন্দের কাজটিকেই ব্যবসায় রূপান্তর করতে হবে।

  • বাস্তবতা: যদি আপনি জোর করে এমন কিছু করেন যা আপনার ভালো লাগে না, তবে পরীক্ষার চাপের সময় আপনি সেই কাজ ছেড়ে দেবেন। কিন্তু কাজটা যদি শখের হয়, তবে তা আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেবে।

১. অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া (Online Business Ideas)

ইন্টারনেট এখন পুরো বিশ্বকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। ছাত্রদের জন্য অনলাইন ব্যবসাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং সুবিধাজনক, কারণ এখানে লোকেশনের কোনো বালাই নেই। আপনি হলের রুমে বসে বা গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে গিয়েও কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

ক. ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট রাইটিং (Freelancing & Content Writing)

আপনার যদি বাংলা বা ইংরেজিতে ভালো দখল থাকে এবং গুছিয়ে লেখার অভ্যাস থাকে, তবে কন্টেন্ট রাইটিং আপনার জন্য সোনার খনি হতে পারে। বর্তমানে হাজার হাজার ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং নিউজ পোর্টাল তাদের আর্টিকেলের জন্য রাইটার খুঁজছে।

  • কিভাবে শুরু করবেন: শুরুতে নিজের একটি ফেসবুক পেজ বা ব্লগে লেখালেখি করে পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এরপর বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা Upwork, Fiverr-এর মতো মার্কেটপ্লেসে কাজ খুঁজতে পারেন।
  • বাস্তব উদাহরণ: শরীফ, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে ইংরেজিতে বেশ ভালো। পড়াশোনার ফাঁকে সে বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য ব্লগ পোস্ট লিখে দেয়। প্রতি ১০০০ শব্দের আর্টিকেলের জন্য সে ১০-১৫ ডলার চার্জ করে। মাসে তার আয় এখন ২০-২৫ হাজার টাকা, যা তার সেমিস্টার ফি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

খ. ইউটিউব বা ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি (YouTube/Content Creation)

ভিডিও এখন ইন্টারনেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। আপনার যদি ক্যামেরার সামনে কথা বলার জড়তা না থাকে, অথবা ভিডিও এডিটিং ভালো পারেন, তবে ইউটিউব হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার।

  • আইডিয়া: আপনাকে কমেডি ভিডিওই বানাতে হবে এমন নয়। আপনি যেই সাবজেক্টে পড়ছেন (যেমন: ফিজিক্স বা অ্যাকাউন্টিং), তার কঠিন টপিকগুলো সহজ করে বুঝিয়ে টিউটোরিয়াল বানাতে পারেন। অথবা “ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন টিপস” বা “বাজেট ট্রাভেলিং” নিয়েও কাজ করতে পারেন।
  • আয়ের উৎস: গুগল অ্যাডসেন্স, লোকাল ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।
  • টিপস: শুরুতে দামী ক্যামেরার দরকার নেই। ভালো মানের একটা স্মার্টফোন এবং পরিষ্কার অডিও (মাইক্রোফোন) দিয়েই যাত্রা শুরু করা সম্ভব।

গ. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট (Social Media Management)

আজকাল ছোট-বড় সব ব্যবসারই একটি ফেসবুক পেজ বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থাকে। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী সময়ের অভাবে তাদের পেজ ঠিকমতো চালাতে পারেন না। তারা মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারে না বা নিয়মিত পোস্ট করতে পারে না।

  • আপনার কাজ: আপনি ২-৩টি ছোট ব্যবসার দায়িত্ব নিতে পারেন। তাদের পেজের জন্য পোস্ট শিডিউল করা, কাস্টমারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অফার পোস্ট ডিজাইন করা।
  • বাস্তব উদাহরণ: তিশা, একজন বিবিএ শিক্ষার্থী। সে তার এলাকার দুটি বুটিক শপ এবং একটি রেস্টুরেন্টের ফেসবুক পেজ ম্যানেজ করে। সে ক্যানভা (Canva) দিয়ে সুন্দর পোস্টার বানায় এবং কাস্টমারদের সাথে চ্যাট করে অর্ডার কনফার্ম করে। বিনিময়ে সে প্রতি শপ থেকে মাসে ৩০০০-৫০০০ টাকা করে স্যালারি পায়। ঘরে বসেই তার হাতখরচ চলে আসে।

ঘ. গ্রাফিক ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং (Graphic Design & Video Editing)

এটি বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চমূল্যের স্কিল বা হাই-ডিমান্ড স্কিল। আপনি যদি একটু ক্রিয়েটিভ হন, তবে লোগো ডিজাইন, ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা ইউটিউব থাম্বনেইল বানিয়ে ভালো আয় করতে পারেন।

  • সুযোগ: এখন সব কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও এডিটর প্রয়োজন। আপনি যদি Adobe Premiere Pro বা এমনকি মোবাইল অ্যাপ (যেমন CapCut) দিয়েও ভালো এডিট করতে পারেন, তবে কাজের অভাব হবে না।
  • মার্কেটপ্লেস: লোকাল ক্লায়েন্টদের পাশাপাশি 99designs বা Freelancer.com এ প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।
  • পরামর্শ: ইউটিউব দেখে দেখে ৩-৪ মাস সময় নিয়ে কাজ শিখুন। তারপর স্যাম্পল কাজ করে ক্লায়েন্টদের দেখান।

২. ই-কমার্স ও রিসেলিং ব্যবসা (E-commerce & Reselling)

অনলাইনের বাইরেও পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে ছাত্রাবস্থায় ভালো আয় করা সম্ভব। তবে গতানুগতিক দোকানের মতো লাখ লাখ টাকার পুঁজি এখানে দরকার নেই। স্মার্টলি কাজ করলে নামমাত্র পুঁজিতেই আপনি “স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনার” হতে পারেন।

ক. ড্রপশিপিং বা রিসেলিং (Dropshipping/Reselling)

ছাত্রদের জন্য এটি সম্ভবত সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। ড্রপশিপিং বা রিসেলিং মডেলে আপনাকে কোনো পণ্য আগে থেকে কিনে স্টক করতে হয় না। আপনি শুধু পণ্যের ছবি আপনার ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে শেয়ার করবেন। যখন অর্ডার আসবে, তখন মূল সাপ্লায়ারের কাছ থেকে পণ্যটি কাস্টমারের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবেন। মাঝখানের প্রফিটটাই আপনার আয়।

  • কিভাবে কাজ করে: ধরুন, পাইকারি বাজারে একটি টি-শার্টের দাম ২০০ টাকা। আপনি আপনার পেজে সেটির ছবি দিয়ে দাম রাখলেন ৩৫০ টাকা। অর্ডার আসলে সাপ্লায়ারকে ২০০ টাকা ও ডেলিভারি চার্জ দিয়ে দিলেই কাজ শেষ। বাকি ১৫০ টাকা আপনার লাভ।
  • বাস্তব উদাহরণ: রাফি, একজন পলিটেকনিকের ছাত্র। সে ঢাকার চকবাজারের এক গ্যাজেট ইম্পোর্টারের সাথে কথা বলে তাদের স্মার্টওয়াচ ও হেডফোন নিজের ফেসবুক পেজে বিক্রি করে। তার নিজের কোনো দোকান বা গোডাউন নেই, শুধু একটা স্মার্টফোন দিয়েই সে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা আয় করে।

খ. হাতে তৈরি পণ্য বা হস্তশিল্প (Handmade Crafts)

আপনার যদি সৃজনশীল কাজ বা ক্রাফটিংয়ের শখ থাকে, তবে এটি হতে পারে আয়ের দারুণ উৎস। বর্তমানে মানুষ ইউনিক এবং কাস্টমাইজড জিনিসে আগ্রহী। মাটির গয়না, রেজিন আর্ট (Resin Art), ক্যানভাস পেইন্টিং বা হাতে আঁকা টি-শার্টের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

  • সুযোগ: বিশেষ করে ভ্যালেন্টাইনস ডে, নববর্ষ বা ঈদের সময় এই পণ্যগুলোর চাহিদা আকাশচুম্বী হয়। আপনি পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে অবসর সময়ে পণ্যগুলো তৈরি করে রাখতে পারেন।
  • মার্কেটপ্লেস: ইনস্টাগ্রাম এই ব্যবসার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম। সুন্দর ছবি তুলে আপলোড করলে দ্রুত কাস্টমার পাওয়া যায়।

গ. পুরাতন বই বা নোট বিক্রি (Selling Used Books/Notes)

এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আইডিয়া। প্রতি সেমিস্টার শেষে বা বছর শেষে আমাদের অনেক বই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। এই বইগুলো রদ্দি কাগজের দরে বিক্রি না করে জুনিয়রদের কাছে অর্ধেক দামে বিক্রি করতে পারেন।

  • আইডিয়া: শুধু বই নয়, ক্লাসের টপ করা ছাত্রদের তৈরি করা হ্যান্ডনোট বা সাজেশনের প্রচুর চাহিদা থাকে। আপনি যদি ভালো নোট তৈরি করতে পারেন, তবে সেগুলো স্ক্যান করে পিডিএফ (PDF) আকারে বা ফটোকপি করে বিক্রি করতে পারেন।
  • বাস্তব উদাহরণ: নাবিলা, মেডিকেল স্টুডেন্ট। মেডিকেলের বইগুলোর দাম অনেক বেশি। সে তার সিনিয়রদের কাছ থেকে কম দামে বই কিনে ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের কাছে বিক্রি করে। পাশাপাশি তার নিজের করা এনাটমি (Anatomy) নোটগুলো ফটোকপি করে বিক্রি করে সে তার হোস্টেল খরচ নিজেই চালায়।

৩. শিক্ষামূলক বা স্কিল শেয়ারিং ব্যবসা (Educational Business)

একজন ছাত্র হিসেবে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আপনার জ্ঞান। আর জ্ঞান বিতরণ করা হলো এমন এক ব্যবসা যেখানে পুঁজি লাগে শূন্য, কিন্তু সম্মান এবং আয়—দুটোই অনেক।

ক. হোম টিউটর বা ব্যাচ পড়ানো (Home Tuition)

টিউশন করা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে পুরনো এবং পরীক্ষিত আয়ের পথ। তবে এখন আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশন করানোর দরকার নেই। আপনি চাইলে নিজের বাসায় ব্যাচ করে পড়াতে পারেন অথবা অনলাইনে জুম (Zoom) বা গুগল মিটের মাধ্যমেও পড়াতে পারেন।

  • কৌশল: ইংরেজি, গণিত বা বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর চাহিদা সবসময় বেশি। আপনি যদি ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার (Admission Test) জন্য কোচিং করাতে পারেন, তবে আয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
  • সুবিধা: এটি আপনার নিজের পড়াশোনার চর্চাও ঠিক রাখে এবং যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ায়।

খ. স্কিল ভিত্তিক কোর্স বিক্রি (Selling Courses)

আপনার যদি কোনো বিশেষ দক্ষতা থাকে, যেমন—গিটার বাজানো, সুন্দর হাতের লেখা, কোডিং, বা স্পোকেন ইংলিশ, তবে সেটি অন্যদের শিখিয়ে আয় করতে পারেন। বারবার ক্লাস নেওয়ার ঝামেলা এড়াতে আপনি ভিডিও রেকর্ড করে একটি কমপ্লিট কোর্স বানিয়ে ফেলতে পারেন।

  • প্যাসিভ ইনকাম: একবার কষ্ট করে কোর্সটি বানালে, আপনি সারা বছর সেটি বিক্রি করতে পারবেন। এটি পড়াশোনার চাপে থাকা ছাত্রদের জন্য দারুণ, কারণ এখানে প্রতিদিন সময় দিতে হয় না।
  • প্লাটফর্ম: Udemy, বা নিজের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেই কোর্স বিক্রি করা সম্ভব।

পড়াশোনা ও ব্যবসার ভারসাম্য বজায় রাখার টিপস (Tips for Balancing Study & Business)

ব্যবসা করাটা উত্তেজনাকর, কিন্তু মনে রাখবেন—আপনার মূল পরিচয় আপনি একজন ছাত্র। রেজাল্ট খারাপ করে ব্যবসা করলে ভবিষ্যতে আফসোস হতে পারে। তাই ব্যালেন্স করাটা খুব জরুরি।

১. প্রায়োরিটি সেট করুন: পরীক্ষার ১ মাস আগে ব্যবসার কাজ কমিয়ে দিন বা পজ (Pause) রাখুন। কাস্টমারদের আগে থেকেই জানিয়ে দিন যে আপনি কিছুদিন ছুটিতে থাকবেন। ২. রুটিন মানুন: দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় (যেমন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টা) ব্যবসার জন্য রাখুন। বাকি সময়টা পড়াশোনা ও বিশ্রামের জন্য। ৩. অটোমেশন ব্যবহার করুন: ফেসবুক পেজে অটো-রিপ্লাই চালু রাখুন যাতে আপনি পড়াশোনা করার সময়ও কাস্টমাররা বেসিক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যায়। ৪. আয়ের সঠিক ব্যবহার: প্রথম দিকে যা আয় হবে, তা উড়িয়ে দেবেন না। কিছু টাকা ব্যবসায় রি-ইনভেস্ট করুন (যেমন ভালো একটা ল্যাপটপ কেনা বা স্কিল ডেভেলপ করা) এবং কিছু টাকা সেভ করুন।

উপসংহার (Conclusion)

ছাত্রজীবন হলো জীবনের সেই অধ্যায় যেখানে হারানোর কিছু নেই, কিন্তু পাওয়ার আছে পুরো পৃথিবী। আজ আপনি যে ছোট ব্যবসাটি শুরু করবেন, কে জানে কাল সেটিই হয়তো দেশের বড় কোনো ব্র্যান্ডে পরিণত হবে।

তবে সফল হতে হলে ধৈর্য ধরতে হবে। প্রথম মাসেই হয়তো হাজার হাজার টাকা আসবে না, কিন্তু লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। পড়াশোনার পাশাপাশি এই বাড়তি প্রচেষ্টা আপনাকে শুধু আর্থিকভাবেই স্বাবলম্বী করবে না, বরং আপনাকে একজন দায়িত্ববান এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

তাই আর দেরি কেন? ওপরের আইডিয়াগুলো থেকে আপনার পছন্দের এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো একটি বেছে নিন। খাতা-কলমের পাশাপাশি নিজের স্বপ্নের পথেও আজই আঁকিবুঁকি শুরু করুন। মনে রাখবেন, “শুরু করাটাই সাফল্যের অর্ধেক।”

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ Section)

১. ছাত্রজীবনে ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে? বেশিরভাগ অনলাইন ব্যবসা যেমন কন্টেন্ট রাইটিং, টিউশন বা রিসেলিং শুরু করতে কোনো টাকার প্রয়োজন হয় না। তবে ছোটখাটো ই-কমার্স বা ক্রাফটিং শুরু করতে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা যথেষ্ট।

২. পড়াশোনার ক্ষতি না করে দিনে কতক্ষণ সময় দেওয়া উচিত? দিনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় ব্যবসার জন্য যথেষ্ট। তবে পরীক্ষার সময় এই সময়টা কমিয়ে আনা উচিত।

৩. কোন ব্যবসাটি ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক? কোনো ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া দ্রুত আয়ের জন্য টিউশন বা স্কিল-বেসড ফ্রিল্যান্সিং সবচেয়ে লাভজনক। আর দীর্ঘমেয়াদী আয়ের জন্য ই-কমার্স বা ইউটিউব ভালো অপশন।

৪. পরিবার যদি সাপোর্ট না করে তখন কী করব? শুরুতে পরিবারকে বোঝানো কঠিন হতে পারে। তাই প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে নিজের হাতখরচ চালিয়ে প্রমাণ করুন যে এতে আপনার পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে না। আপনার রেজাল্ট ভালো থাকলে এবং নিজের খরচ নিজে চালালে পরিবার অবশ্যই সাপোর্ট দেবে।

লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া: অল্প পুঁজিতে আজই শুরু করুন

Leave a Comment

সম্পর্কিত পোস্টসমূহ

আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

Scroll to Top